Ad

বাংলাদেশের ৯৯% মুসলিম ঘরেই প্রাণীর ছবি, পুতুল মুর্তি, বা ভাস্কর্য পাওয়া যাবে।


 হয় বাচ্চার কাপড়ে, খেলনায়,চাদরে বা পর্দায় নয়তো ঘরের ক্যালেন্ডারে প্রাণীর ছবি থাকেই। অথচ, এ ব্যপারে ইসলামে রয়েছে কঠোর নিষেধ ও হুসীয়ারি।
♦ রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম বলেন-
لا تدخل الملائكة بيتاً فيه كلب أو صورة
অর্থ-"যে ঘরে কোন কুকুর কিংবা [ ছুরাত ]অন্য রেওয়ায়াতে তাছাউয়ীর শব্দ আছে যার অর্থ- কোন প্রাণীর প্রতিকৃতি,ছবি,অংকিত প্রানীর আকৃতি ইত্যাদি থাকবে সে ঘরে ফেরেশতাগন প্রবেশ করেন না।"
(সহীহ বুখারীঃ৫৬১৫;সহীহ মুসলিমঃ২১০৪)
♦কোন প্রানীর প্রতিকৃতির ব্যাপারে ইসলামী বিধান হচ্ছে-
ان من اشد الناس عذابا يوم القيامة الذين يشبهون بخلق الله
অর্থঃ"কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশী শাস্তি পাবে যারা আল্লাহর সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন কিছু তৈরি করত(অর্থাৎ কোন প্রাণীর সাদৃশ্য তৈরি করত)।"
(সহীহ বুখারীঃ৫৬১০;সহীহ মুসলিমঃ২১০৭)
***বাচ্চাদের পুতুল খরিদ করে দেওয়া কিংবা খেলার সুযোগ করে দেওয়ার শরয়ী বিধানঃ
বাচ্চাদের পুতুল বিষয়ে শায়খ মূসা শাহীন বলেন-
ان النهى فى الصورة على العموم، واستعمال ما فيه صورة أيا كان ممنوع، سواء كانت رقما فى ثوب اوغير رقم، وسواء كانت فى ثوب او بساط ممتهن او غير ممتهن، حتى تماثيل لعب البنات حرام، ودخول البيت الذى فيه الصورة بجميع انواعها حرام، حالة واحدة مستثناة هى اذا فرقت الصورة، فلم تكن على هيئة يصح بها الحياة، كأن قطعت رأسها او فرقت اجزاؤها، وهذا مذهب منقول عن الزهرى، وصححه ابن العربى، وقواه النووى
অর্থ:" প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা আমভাবে নিষেধ তথা হারাম। এগুলো ব্যবহার করা, এর ব্যবসা করা হারাম। এগুলো কাপড়ে তৈরি করা হোক অথবা কাপড় ছাড়া অন্য কিছুতে হোক একই হুকুম, অনুরূপ কাপড়ে, বিছানায় লাঞ্ছনার জন্য হোক অথবা লাঞ্ছনার জন্য তৈরি করা হোক একই হুকুম। এমনকি শিশুদের খেলার জন্য তৈরিকৃত প্রাণীর ছবি, মূর্তি, পুতুল ইত্যাদি হারাম। সর্বপ্রকার প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে প্রবেশ করাও হারাম। কিন্তু যদি প্রাণীর ছবি বা মূর্তি-ভাস্কর্যের মাথা কাটার কারণে প্রাণীর বা মূর্তি-ভাস্কর্যের মতো দেখা না যায়, তাহলে তা হারাম নয়। ইহা তাবিয়ী হযরত ইমাম ইবনে শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণিত গ্রহণযোগ্য মত। হযরত ইমাম ইবনুল আরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ মতকে ছহীহ বলেছেন। হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ মতকে শক্তিশালী বলেছেন।"
(ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম ৮/৩৮৭)
***খেলনার বিপরীতে বাচ্চাদের কুরআন হাদিস ও যিকির আযকার শিখাবঃ
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
‘প্রত্যেক শিশু (ইসলামের) ফিতরতের উপর জন্মলাভ করে। কিন্তু পিতা-মাতা তাকে ইহুদী বানায়, খৃষ্টান বানায়, অগ্নিপূজক বানায়।
(সহীহ বুখারী ১/১৮৫, হাদীসঃ ১৩৮৫; সহীহ মুসলিম ২/৩৩৬, হাদীসঃ ২৬৫৮)
সন্তানকে শৈশবেই দ্বীন শিখাতে হবে নতুবা বাবা-মাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার মুখোমুখী হতে হব।
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সতর্কবাণী :
‘পুরুষ তার পরিবারবর্গের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। তাকে তাদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।’
(সহীহ বুখারী ১/২২২, হাদীসঃ ৮৯৩)
শৈশবে সন্তানকে আল্লাহর যিকির আযকার শিখাতে হবে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বি, থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
‘সন্তানকে প্রথম কথা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ শেখাও এবং মৃত্যুর সময় তাদেরকে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর তালকীন কর।’
(শুআবুল ঈমান ৬/৩৯৭-৩৯৮, হাদীসঃ ৮৬৪৯)
সন্তানদের আমরা ছোটবেলা থেকেই সালতের শিক্ষা দিব।
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
"সন্তানের বয়স সাত বছর হলে তাদের নামাযের আদেশ দাও, দশ বছর বয়সে নামাযের জন্য শাসন কর এবং এ বয়সে তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।"
(মুসনাদে আহমদ ২/২১৮, হাদীস ঃ৬৭৫৬; সুনানে আবু দাউদ ১/৭১, হাদীসঃ ৪৯৪)
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমদের সবাইকে বুঝার এবং দ্বীনের বুঝ মুতাবেক আমল করার তাওফিক দান করুক।(আমীন)

Post a Comment

0 Comments